আজ মঙ্গলবার, ৯ই আগস্ট, ২০২২ ইং, ২৫শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ.

এখন সকাল ১০:২৮ মিঃ

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
সত্যের আগমন-মিথ্যার বিধায়
বাংলাদেশ শান্তির দল কর্তৃক
বাংলাদেশ জাতীয় ঐক্য ও শান্তি প্রতিষ্ঠার অহবান

প্রিয় দেশবাসী,
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমতুল্লাহ। আপনারা অবগত আছেন যে, বাংলাদেশে আজ দুর্নীতি, সুদ, ঘুষ, চুরি, ডাকাতি, জলদস্যুতা, গুম ও হত্যা, ছিনতাই, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজী, ঢেন্ডারবাজী, ভূমি দস্যুতা, শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারি, ব্যবসায়ে অবৈধ মুনাফা অর্জন, কতিপয় এন.জি.ও কর্তৃক বাণিজ্যিক ব্যাংক অপেক্ষা অধিক হারে সুদ/সার্ভিস চার্জ আদায়, খাদ্যে ভেজাল-ফরমালিন মিশ্রণ, সরকারি চাকুরীতে নিয়োগ বাণিজ্য, নারী ও শিশু পাচার ও নির্যাতন, ইভটিজিং, মাদক দ্রব্যের আগ্রাসন, গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন শিল্প-কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ, অবরোধ, ভাংচুর ও অগ্নি সংযোগ ইত্যাদি বিভিন্ন প্রকার অন্যায় ও অপরাধ এক চরম বিপর্যয়কর রূপ ধারণ করিয়াছে। তাই, মানুষ আজ নানাবিধ দুঃখ দুর্দশা ও অশান্তিতে নিপতিত হইয়াছে। ইহা ছাড়াও দুঃখজনক বিষয় এই যে, ৩০ লক্ষ শহীদের পবিত্র রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় পরে আজও বাংলাদেশে মানসম্পন্ন গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয় নাই। বৃহত্তম দলগুলি একে অপরকে ভোট কারচুপি ও ভোটে অবৈধ প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ করিয়া আসিতেছে। এই অভিযোগে তারা পরস্পর নজিরবিহীন রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লিপ্ত আছে এবং জাতীয় অনৈক্য ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হইয়াছে। যার ফলে অর্থনৈতিক উন্নতি বাধাগ্রস্ত এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির সম্মুখীন। তাই জাতীয় জীবনের এই মহা বিপদ ও সমস্যা হইতে মুক্তি পাইতে আমাদেরকে উপরে বর্ণিত অন্যায় ও অপরাধসমূহকে চিহ্নিত করিয়া উহা অবসানের লক্ষ্যে বাংলাদেশের একটি শক্তিশালি রাজনৈতিক সংগঠন গড়িয়া তোলা প্রয়োজন। উক্ত লক্ষ্যে অর্জনে আমাদেরকে ব্যক্তি জীবন, পারিবারিক জীবন, সমাজ জীবন ও রাষ্ট্রীয় জীবনের সর্বত্র “ন্যায়ের আদেশ ও অন্যায়ের নিষেধ” এর কার্যক্রম পরিচালনা করিতে হইবে এবং উক্ত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ শান্তির দল নামে একটি রাজনৈতিক সংগঠন গড়িয়া তোলা হইয়াছে। এই কার্যক্রম ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ এবং রাষ্ট্রীয় আইনের আলোকে নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত হইবে। জাতীয় জীবনের সকল ক্ষেত্রে ন্যায়ের আদেশের মাধ্যমে সত্য প্রতিষ্ঠা করা এবং অন্যায়ের নিষেধের মাধ্যমে মিথ্যা বিদুরীত করা বাংলাদেশ শান্তির দলের অন্যতম লক্ষ্য। উক্ত লক্ষ্য অর্জনের জন্য আমাদেরকে ব্যাপকভাবে সাংগঠিন কমিটি গঠন করিয়া গণজাগরণ ও গণবিজয়ের মাধ্যমে বিগত ৪৪ বছরের সকল অন্যায়, অবিচার ও অপরাধের মূল উৎপাটন করিতে হইবে। বাংলাদেশ শান্তির দল চলমান সকল অন্যায় ও অবিচারের বিপরীতে ন্যায় ও সুবিচার প্রতিষ্ঠায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
বাংলাদেশ শান্তির দলের মূলনীতি নিম্নরূপ :-

৬টি মূলনীতি

১। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতা সমূন্নত রাখা ১৯৭১ ইং সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকে জাতীয় জীবনে ঐক্য ও শান্তি প্রতিষ্ঠাক্রমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্রীয় ভৌগলিক অখণ্ডতা মূন্নত রাখা।

২। গণতন্ত্র বাংলাদেশ শান্তির দল বাংলাদেশে মানসম্পন্ন, অহিংস ও শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা চালু করিবে এবং স্বাধীন নির্বাচন মিশন গঠন করত: কালো টাকা ও পেশীশক্তি মুক্ত নির্বাচনী ব্যবস্থা প্রবর্তন করিবে।

৩। মুক্ত অর্থনীতি, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও সুষম বণ্টন বাংলাদেশ শান্তির দল বাংলাদেশে মুক্ত অর্থনৈতিক ব্যবস্থার অধীনে বিশ্বমানের
অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করিবে এবং ন্যায় ভিত্তিক সুষম বণ্টন ব্যবস্থার মাধ্যমে সকলের জন্য অর্থনৈতিক মুক্তির নিশ্চয়তা বিধান করিবে।

৪। সুশাসন ও শান্তি প্রতিষ্ঠা করা বাংলাদেশ শান্তির দল বাংলাদেশে দক্ষ ও জবাবদিহি মূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থা ও স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করত: বাংলাদেশে সুনীতি, সুবিচার, সুশাসন ও শান্তি প্রতিষ্ঠা করিবে।

৫। সকলের জন্য অর্থনৈতিক ও আইন শৃঙ্খলাজনিত নিরাপত্তা বাংলাদেশ শান্তির দল বাংলাদেশে সরকারিভাবে সামাজিক নিরাপত্তা তহবিল
গঠনক্রমে এবং সম্ভাব্য অন্যান্য উপায়ে জনগণের জন্য মৌলিক চাহিদা জনিত অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বিধান করিবে এবং জাতীয় জীবনের সকল ক্ষেত্রে সুশাসন এবং ন্যায়ের আদেশ ও অন্যায়ের নিষেধের মাধ্যমে দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন নীতি বাস্তবায়নক্রমে জনগণের জান ও মালের আইন শৃঙ্খলাজনিত নিরাপত্তা বিধান করিবে।

৬। ইসলামী মূল্যবোধ ও সকল স¤প্রদায়ের ধর্মীয় স্বাধীনতা বাংলাদেশের অধিকাংশ নাগরিক ইসলাম ধর্মাবলম্বী হওয়ায় এই দল বাংলাদেশে ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করিবে এবং পাশাপাশি সকল ধর্মের নাগরিকবৃন্দের ধর্মীয় স্বাধীনতার নিশ্চয়তা বিধান করিবে।